ষড়যন্ত্র করে মাদক রাখা হয়েছে একার বাসায়’

চিত্রনায়িকা সিমন হাসান একার বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে উঠেছে। তার বাসায় অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার করেছে পুলিশ। কিন্তু আসামিপক্ষ আদালতে দাবি করেছে, ষড়যন্ত্র করে একার বাসায় মাদক রাখা হয়েছে।

রোববার (১ আগস্ট) চিত্রনায়িকা একাকে আদালতে হাজির করে গৃহকর্মীকে হত্যাচেষ্টার মামলায় তিন দিন এবং মাদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোসহ তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. ফয়সাল। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

আদালত প্রথমে মাদক মামলায় একাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এর পর দুই মামলায় রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল দুই মামলায় তিন দিন করে ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদন করেন।

তাপস কুমার পাল বলেন, ‘গৃহকর্মী হাজেরা বেগম একার বাসায় তিন মাস ধরে কাজ করতেন। হঠাৎ একা তাকে কাজে আসতে বারণ করেন। তখন হাজেরা বেগম তার বকেয়া বেতন চান। একা টাকা না দিয়ে বটি এনে হাজেরা বেগমের মাথায় কোপ মারেন। হাজেরা বেগমকে যে বটি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে তা উদ্ধারসহ মামলার আসল রহস্য উদঘাটনের জন্য একার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হোক।’

আসামির পক্ষে অ্যাডভোকেট হুমায়ন কবির রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানির শুরুতেই তিনি বলেন, ‘একার বাসায় বটিই নেই। চাকু ব্যবহার করেন তিনি। মামলা মেকিং করার জন্য এটা বলা হয়েছে। হাজেরা বেগম একার বাসায় থেকেই তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেন।’

একা আদালতকে জানান, কিছু দিন আগে তার অস্ত্রোপচার হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার আইনজীবী বলেন, ‘এ অবস্থায় তিনি কীভাবে বটি নিয়ে দৌড়েছেন। এটা হতে পারে না। তার রিমান্ড বাতিলের আবেদন করছি। প্রয়োজনে তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।’

এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘সবার বাসায় বটি থাকে। এখানে যারা আছে, জিজ্ঞাসা করেন, সবার বাসায় বটি আছে।’ তখন আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘এখন কত ধরনের চাকু বের হয়েছে। বটি লাগে না।’

এরপর মাদক মামলায় রিমান্ড শুনানি হয়। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বলা হয়, ‘একার বাসা সার্চ করে ৫ পিস ইয়াবা, ৫০ গ্রাম গাঁজা ও ৫৫০ মিলিলিটার মদ জব্দ করা হয়। তিনি মাদক বিক্রি করেন। তার রিমান্ড মঞ্জুর করা হোক।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘জেরা ড্রইং রুম লক করে চাবি নিয়ে যায়। পরে ষড়যন্ত্র করে বাসায় মাদক রাখা হয়েছে। একাকে জামিন দেওয়া হোক।’

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে একাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here