পঞ্চগড়ে আগুনে গৃহবধূর ‘আত্মাহুতি’

পঞ্চগড়ে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর গায়ে আগুন দিয়ে গৃহবধূ হালিমা খাতুন (৫০) আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হালিমা খাতুন পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাতকাজল দিঘি ইউনিয়নের ছোবারভিটা এলাকার কিতাব আলীর স্ত্রী।

জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইফতারের পর বাড়ির পাশের বাঁশবাগানে গিয়ে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন ওই নারী। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিবারের লোকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থা খারাপ হওয়ায় রংপুর নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবারের লোকজন। রংপুর নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

রবিবার ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ। তবে এ ঘটনায় তার পরিবারের কারো কোনো অভিযোগ নেই।

পুলিশ জানায়, হালিমা খাতুনের চার ছেলে। দুই ছেলে থাকেন বগুড়ায়। একজন বাড়ির কৃষি কাজ দেখভাল করেন। অপরজন স্থানীয় টমেটোর আড়তে কাজ করেন। তার স্বামী কিতাব আলীও কৃষি কাজ করেন। তবে সংসারের সবকিছুর দায়িত্ব সামলাতেন হালিমা। আশপাশের শিশু ও নারীদের আরবি শিক্ষা দিতেন। সুস্থ-স্বাভাবিক ওই নারী শনিবার রোজা ছিলেন। স্বাভাবিকভাবে গৃহস্থালির কাজও করেন। কিন্তু ইফতার করার কিছুক্ষণ পর বাড়ির পূর্বদিকের একটি বাঁশবাগানে গিয়ে গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। পুরো শরীরে আগুন ছড়িয়ে পড়লে চিৎকার করে ছোটাছুটি করতে থাকেন ওই নারী। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিবারের লোকজন আগুন নিভিয়ে তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। তার শরীরের মাথা থেকে পা পর্যন্ত পুরো অংশ আগুনে ঝলসে যায়। হাসপাতালে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরিবারের লোকজন তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। রবিবার সকালে খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

তবে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার কথা অস্বীকার করছে তার পরিবার। এমনকি ওই নারীর বড় ছেলে হায়দার আলী তার মায়ের মানসিক সমস্যা ছিল বলে পুলিশকে লিখিতভাবে অবহিত করেছে। পরিবারের সদস্যদের এমন কথাবার্তায় বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই নারীর বড় ছেলে হায়দার আলী বলেন, আমার মায়ের মানসিক সমস্যা ছিল। কারো সঙ্গে কোনো ঝগড়াও হয়নি। তবে কেন আত্মহত্যা করল আমরা ভেবে পাচ্ছি না। আমার মায়ের এই উছিলায় মৃত্যু ছিল তাই এভাবেই মৃত্যু হয়েছে।

কামাতকাজল দিঘি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাহার আলী বলেন, ওই নারীই ওই সংসারের দেখভাল করতেন। কিন্তু কী কারণে আত্মহত্যা করলেন আমরা বুঝতে পারছি না। বিষয়টি রহস্যজনক।

পঞ্চগড় সদর থানার উপপরিদর্শক বেলাল হোসেন বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে জেনেছি ওই নারী তার স্বামীর সঙ্গে কোনো বিষয়ে ঝগড়া হয়েছিল। সারা দিন রোজা থেকে ইফতারের পর বাড়ির পাশের বাঁশবাগানে গিয়ে শরীরে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তে আগুন পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে রংপুর নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তার এক সন্তান বলছেন তার মা মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তাদের কোনো অভিযোগ নেই। আমাদের কাছে বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় আমরা ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here