চাপে রেখে হেফাজতকে নিবৃত্ত রাখতে চায় সরকার

মামুনুল হকের নারী কেলেঙ্কারি ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধার অভিযোগে হঠাৎ চাপে পড়েছে আন্দোলনের নামে ধ্বংসাত্মক কর্মকা- চালানো ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম এমনটাই মনে করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। এখন থেকে চাপে পড়া হেফাজতকে আন্দোলনে নামার সব পথ বন্ধ করে দিতে চায় সরকার। তবে হেফাজতকে মোকাবিলায় এখনো হামলা-মামলার পথ অনুসরণ করা হবে না। এ কৌশলেই তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে চায় সরকার। অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে হেফাজতে ইসলামকে কৌশলে মোকাবিলা করার চেষ্টা শুরু থেকেই ছিল। এবারের কৌশলের অন্যতম হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে পরিবর্তন নিয়ে আসা। নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, হেফাজতের বিরুদ্ধে মাঠে না দাঁড়িয়ে কৌশলে নিয়ন্ত্রণ করা যতটা নিরাপদ হবে বিকল্প উপায়ে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা ঠিক ততটাই কষ্টসাধ্য হবে। নানা মহল থেকে হেফাজতের বিরুদ্ধে ‘অ্যাকশনে’ যাওয়ার দাবি উঠলেও সে পথে মোটেও যেতে চায় না সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, হেফাজতের নাশকতা, নারী কেলেঙ্কারির ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনিভাবে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তবে হেফাজতের বিরুদ্ধে সরকারের কৌশলকে যথেষ্ট মনে করছে না সংগঠন আওয়ামী লীগ। মাঠে মোকাবিলা না করে শুধু কৌশলে নিয়ন্ত্রণ করা ঠিক কতটা কার্যকরী হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে আওয়ামী লীগে। দলের শীর্ষ নেতারা বলেন, হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে মাঠেও সক্রিয় ও সতর্ক থাকতে হবে। আইনিভাবে মোকাবিলা করার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও মোকাবিলা করতে হবে তাদের। আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, হেফাজতে ইসলামকে আর ছাড় দেওয়া যাবে না। রাজনৈতিক কর্মসূচি নিতে হবে। হেফাজতের নাশকতা, নারী কেলেঙ্কারি এসবের বিরুদ্ধে পাড়া-মহল্লায় জনমত গঠন করতে হবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য আবদুর রহমান বলেন, হেফাজতকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার সময় এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে পাড়া-মহল্লায় জনমত গড়ে তুলতে হবে। তারা ইসলামের নামে মূলত জনগণকে বিভ্রান্ত করছে, তা রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে অবহিত করতে হবে।

আওয়ামী লীগের অন্য সভাপতিম-লীর সদস্য ফারুক খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, হেফাজতের নাশকতা, নারী কেলেঙ্কারির ঘটনাগুলো বেশি করে প্রচার-প্রচারণা করতে হবে। তারা ধর্মের নামে ধর্মকে কলুষিত করছে। এগুলো পাড়া-মহল্লার মানুষকে জানাতে হবে। সময় এসেছে হেফাজতকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার। তিনি বলেন, ইসলামের নামে ইসলামে নিষিদ্ধ কর্মকা- যারা করে তারা ইসলামের ধারক-বাহক হতে পারে না এটা মানুষকে জানাতে হবে রাজনৈতিকভাবেই।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা মনে করেন, শুরু থেকেই রাজনৈতিক শক্তি দিয়ে হেফাজতকে মোকাবিলা করলে আজকে এতটা ভোগান্তিতে পড়তে হতো না সরকারকে। সরকারি দলের নেতারা দেশ রূপান্তরকে আরও বলেন, হেফাজতের বিরুদ্ধে ইস্যুগুলো পুঁজি করে রাজনৈতিক প্রচারণা বাড়াতে হবে। পাড়া-মহল্লায় সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। হেফাজতের নাশকতা, নারী কেলেঙ্কারির বিষয়গুলোকে সামনে এনে প্রচার-প্রচারণা বাড়াতে হবে। হেফাজতের ভিত্তি দুর্বল করতে হলে হেফাজত অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকা- বাড়িয়ে দিতে হবে। মাদ্রাসাগুলোতে নজরদারি বাড়াতে হবে।

তবে হেফাজতে ইসলামের নেতারা দাবি করেন, তারা কোনো চাপে নেই। মামুনুল হকের নেতৃত্ব হেফাজতে ইসলামকে প্রশ্নবিদ্ধ করা বিতর্কিত করার জন্য সরকার কৃত্রিমভাবে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে তা জনগণ বিশ্বাস করেনি। হেফাজত নেতাদের কাছে মামুনুল হক অপরাধী নয়। বরং তারা আরও আন্তরিকভাবে মামুনুল হকের সঙ্গে আছেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হেফাজতে ইসলামের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আতাইল্ল্যাহ আমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, নারায়ণগঞ্জের ঘটনাকে আমরা কৃত্রিম ঘটনা বলে মনে করি। আমাদের কাছে মামুনুল হক অপরাধী নয়। তবে নারায়ণগঞ্জে রিসোর্টে যাওয়ার আগে উনাকে আরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত ছিল। তিনি বলেন, আমরা হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে বৈঠক করেছি। নারায়ণগঞ্জের ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সেখানে মামুনুল হককে যারা হেনস্তা করেছে তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আমাদের সংগঠনের যে ২০ জনকে হত্যা করা হয়েছে তাদের বিচার করতে হবে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা কর্মসূচি গ্রহণ করে দাবি আদায় করব। তিনি বলেন, আমরা সরকার পতনের আন্দোলন করছি না। আমরা ইসলামবিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here