কয়েকটি প্রয়োজনীয় দোয়া

আল্লাহতায়ালার কাছে কল্যাণ ও উপকার লাভের উদ্দেশ্যে এবং ক্ষতি ও অপকার থেকে দূরে থাকার জন্য প্রার্থনা করাই হলো দোয়া। কোরআন-হাদিসে দোয়াকে ইবাদত হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যেহেতু মুমিনরা বিশ্বাস করেন, তার ইহকালীন ও পরকালীন জীবনের শান্তি, স্থিতি, সাফল্য ও মুক্তি নির্ভর করে আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহের ওপর। তার সব ইবাদত-বন্দেগির উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি, দয়া ও অনুগ্রহ লাভ করা। তাই ইবাদতের পাশাপাশি তারা দোয়াকেও গুরুত্ব দেন, যা বান্দার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহকে ত্বরান্বিত করে। এখানে মানব জীবনে প্রয়োজনীয় কয়েকটি দোয়া উল্লেখ করা হলো।

আল্লাহর সাহায্য লাভের দোয়া

উচ্চারণ : লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

অর্থ : আল্লাহর সহযোগিতা ছাড়া কারও (ভালো কর্মের দিকে) এগিয়ে যাওয়া এবং (খারাপ কর্ম থেকে) ফিরে আসার সামর্থ্য নেই।

হজরত আবু মুসা (রা.) বলেন, আমরা কোনো এক সফরে রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে ছিলাম। তখন মানুষ উচ্চৈঃস্বরে তাকবির পাঠ করছিলেন। রাসুল (সা.) বলেন, হে মানবজাতি, তোমরা জীবনের ওপর সদয় হও। কেননা তোমরা তো কোনো বধির অথবা অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছো না। নিশ্চয় তোমরা ডাকছো সর্বশ্রোতা, নিকটবর্তী সত্তাকে, যিনি তোমাদের সঙ্গেই আছেন। আবু মুসা (রা.) বলেন, আমি তার পিছে ছিলাম। তখন আমি বলছিলাম, আল্লাহর সহযোগিতা ছাড়া কোনো ভালো কাজের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এবং মন্দকর্ম থেকে ফিরে আসার সামর্থ্য নেই। তখন (সা.) বলেন, হে আবদুল্লাহ ইবনে কায়স, আমি তোমাকে জান্নাতের গুপ্তধনগুলোর মধ্যে কোনো একটি গুপ্তধনের কথা জানিয়ে দেব? আমি বললাম, অবশ্যই হে আল্লাহর রাসুল, অতঃপর তিনি বলেন, তুমি এই (উপরোক্ত) দোয়া পড়ো। (সহিহ মুসলিম : ৬৭৫৫)

সন্ধ্যায় যে দোয়া পড়তে হয়

উচ্চারণ : আমসাইনা ওয়া আমসাল মুলকু লিল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহ।

অর্থ : আমরা রাতে উপনীত হলাম এবং আল্লাহতায়ালার বিশ্বজাহানও রাতে উপনীত হলো। সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য, আল্লাহতায়ালা ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক, তার কোনো শরিক নেই।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে রাসুল (সা.) এই দোয়া পড়তেন। (সুনানে তিরমিজি : ৩৩৯০)

বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার দোয়া

উচ্চারণ : আল্লাহু আল্লাহু রব্বি, লা উশরিকু বিহি শাইআ।

অর্থ : আল্লাহ! আল্লাহ! আমার রব! তার সঙ্গে আমি কাউকে শরিক করি না।

হজরত আসমা বিনতে উমাইস (রা.) বলেন, একদা রাসুল (সা.) আমাকে বলেন, আমি কি তোমাকে এমন কয়েকটি বাক্য শিক্ষা দেব না, যা তুমি বিপদের সময় পাঠ করবে? তারপর তিনি এই দোয়া শিক্ষা দেন। (সুনানে আবু দাউদ : ১৫২৫)

দুশ্চিন্তা মুক্তির দোয়া

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হামমি ওয়াল হুজনি, ওয়া আউজুবিকা মিনাল আজজি ওয়াল কাসালি, ওয়া আউজুবিকা মিনাল জুবনি ওয়াল বুখলি, ওয়া আউজুবিকা মিন গলাবাতিদ দাইনি ওয়া কহরির রিজাল।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা থেকে আশ্রয় চাই। আমি আশ্রয় চাই অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, আপনার কাছে আশ্রয় চাই ভীরুতা ও কার্পণ্য থেকে, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই ঋণের বোঝা ও মানুষের রোষানল থেকে।’

হজরত আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদে প্রবেশ করে সেখানে আবু উমামাহ নামক এক আনসারী সাহাবিকে দেখতে পেয়ে তাকে বললেন, হে আবু উমামাহ! কী ব্যাপার! আমি তোমাকে নামাজের ওয়াক্ত ছাড়া মসজিদে বসে থাকতে দেখছি? তিনি বললেন, সীমাহীন দুশ্চিন্তা ও ঋণের বোঝার কারণে হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেন, আমি কি তোমাকে এমন কিছু বাক্য শিখিয়ে দেব না, তুমি তা বললে আল্লাহ তোমার দুশ্চিন্তা দূর করবেন এবং তোমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থাও করে দেবেন? তিনি বললেন, আমি বললাম, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল! তিনি (সা.) বললেন, তুমি সকাল-সন্ধ্যায় বলবে, তখন তিনি আবু উমামাহ (রা.)-কে এই দোয়া শিক্ষা দিলেন। আবু উমামাহ (রা.) বলেন, আমি তা-ই করলাম। ফলে মহান আল্লাহ আমার দুশ্চিন্তা দূর করলেন এবং আমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থাও করে দিলেন। (সুনানে আবু দাউদ : ১৫৫৫)

দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে রক্ষা পাওয়ার দোয়া

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আয়ুজুবিকা মিনাল বারাছি, ওয়াল জুনুনি, ওয়াল জুজাম, ওয়া মিন সায়্যিইল আসক্বাম।

অর্থ : হে আল্লাহ, আমি তোমার নিকট ধবল, কুষ্ঠ এবং উন্মাদনাসহ সব ধরনের কঠিন দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে পানাহ চাই। (সুনানে আবু দাউদ)

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পেতে, প্রয়োজনীয় সতর্কতার পাশাপাশি এই দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করার পরামর্শ দিয়েছেন ইসলামি স্কলাররা। আল্লাহতায়ালা সবাইকে এই ভয়াবহ ভাইরাস থেকে হেফাজত করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here